পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনা চলাকালীন এক বিরল শক্তি প্রদর্শনের অংশ হিসেবে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে ইরান।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) জেনেভায় ওমানি দূতের বাসভবনে যখন দুই দেশের প্রতিনিধিরা আলোচনায় বসেছিলেন, ঠিক সেই মুহূর্তেই তেহরান এই ঘোষণা দেয়।
ইরান জানিয়েছে, নিরাপত্তা ও নৌ চলাচল-সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহনে জড়িত এই প্রণালী সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বিশেষ করে একই সময়ে সেখানে সামরিক মহড়া পরিচালিত হওয়ায় নিরাপত্তাজনিত বাড়তি উদ্বেগ তৈরি হওয়ার কারণে এই পদক্ষেপ নিয়েছে তেহরান।
তবে এই ব্যতিক্রমী পদক্ষেপকে অনেক বিশ্লেষকই দেখছেন যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে একটি স্পষ্ট বার্তা হিসেবে। কারণ, এমন সময়ে এ ধরনের সিদ্ধান্ত আসলো যখন যুক্তরাষ্ট্র অঞ্চলটিতে ব্যাপক সামরিক উপস্থিতি জড়ো করেছে এবং কোনও চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে ইরানের ওপর হামলার হুমকিও দিয়েছে।
জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যপ্রাচ্য অধ্যয়ন কর্মসূচির পরিচালক সিনা এজোদি এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘যেদিন তারা আমেরিকানদের সঙ্গে আলোচনা করছে, সেদিনই এই ঘটনা ঘটছে, এটা কাকতালীয় বলে আমি মনে করি না।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইরান বহু দশক ধরে নিজেকে পারস্য উপসাগরে নিয়ন্ত্রক হিসেবে নিজেদের তুলে ধরতে চেয়েছে। প্রণালী বন্ধ করে তারা মূলত এই বার্তাই দিতে চেয়েছে যে, সেখানে কারা নিয়ন্ত্রণ করছে।’