মোদির সঙ্গ ছাড়লেন প্রভাবশালী নেতা, বিজেপিতে টানাপোড়েন প্রকাশ্যে

ছবি: সংগৃহীত।

তামিলনাড়ু বিজেপির সবচেয়ে পরিচিত মুখ কে অন্নামালাই পদত্যাগ করেছেন। শুক্রবার (৫ জুন) এক বিবৃতিতে দলটি জানিয়েছে, ‘বিজেপির জাতীয় সভাপতি নীতিন নবীন তামিলনাড়ুর সাবেক রাজ্য সভাপতি কে অন্নামালাইয়ের দলীয় প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন।’

গত মঙ্গলবার (২ জুন) নীতিন নবীনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ‘সৌহার্দ্যপূর্ণ আবহে’ দলত্যাগ করার কথা জানান আন্নামালাই। এরপর তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং বিজেপির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক বি এল সন্তোষের সঙ্গেও বৈঠক করেন। সেসব বৈঠকে দলের শীর্ষনেতারা তাকে অপেক্ষা করতে বলেছিল।

এরপর পর্দার আড়ালে কয়েক দফা আলোচনা হয়। অন্নামালাইয়ের উত্তরসূরি ও বর্তমান তামিলনাড়ু বিজেপি সভাপতি নৈনার নাগেন্দ্রনকে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দিল্লিতে ডাকা হয়। সেখানে আরও এক দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে সেসব বৈঠকে কোনও কাজ হয়নি। শেষ পর্যন্ত নিজের পদত্যাগের সিদ্ধান্তে অটল থেকেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দলের এই প্রভাবশালী নেতা।

তামিলনাড়ু বিজেপির বর্তমান সভাপতি অবশ্য আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দাবি করেছেন, অন্নামালাইয়ের পদত্যাগে দলের কোনও ক্ষতি হবে না। তিনি বলেন, ‘বিজেপির কোনও ক্ষতি হয়নি। বিজেপি বিশ্বের একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল।’ অন্নামালাইয়ের পদত্যাগ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে এ মন্তব্য করেন তিনি।

নিজের পদত্যাগপত্রে অন্নামালাই লিখেছেন, ‘জাতীয় রাজনৈতিক দলগুলো কখনোই তামিলনাড়ুর মানুষের ভাষায় কথা বলেনি। আমি এই ধারণা পরিবর্তনের চেষ্টা করেছি এবং ভেতর ও বাইরের নানা বাধা, প্রতিবন্ধকতা ও প্রতিকূলতা সত্ত্বেও উল্লেখযোগ্য সাফল্যও পেয়েছি।’

বিদায়ী এই নেতা জানান, গত ১৮ মাস ধরে তিনি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে নিজের ‘মতপার্থক্য’ তুলে ধরেছেন। শেষ পর্যন্ত তিনি দলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নেন।

সাবেক ইন্ডিয়া পুলিশ সার্ভিস (আইপিএস) কর্মকর্তা অন্নামালাই নতুন আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন। একই সঙ্গে আগামী রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতারও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কট্টর অনুরাগী হিসেবে পরিচিত অন্নামালাই ২০২০ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তাকে রাজ্য সহ-সভাপতি করা হয়। এক বছর পর তিনি রাজ্য ইউনিটের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পান। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ৩৭ বছর।

ক্রমেই তার রাজনৈতিক গুরুত্ব বাড়তে থাকে। এমনকি ২০২৩ সালের কর্ণাটক বিধানসভা নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি। যদিও সেই নির্বাচনে বিজেপি পরাজিত হয়। ২০২৬ সালের তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বিজেপি পুনরায় এআইএডিএমকের সঙ্গে জোট গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়ার পর থেকেই দলীয় মতপার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে বলে জানা যায়।

সূত্রগুলোর দাবি, অন্নামালাই চেয়েছিলেন বিজেপি এককভাবে নির্বাচনে লড়ে নিজেদের রাজনৈতিক ভিত্তি সম্প্রসারণ করুক। কিন্তু কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পরিকল্পনা ছিল ভিন্ন। আর তাতেই শেষ পর্যন্ত বিজেপির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার পথে হাঁটলেন আন্নামালাই।


  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইরান যুদ্ধকে ‘ভুল’ মনে করছেন ৬৮ শতাংশ মার্কিনি: জরিপ

পাউরুটিতে ক্যান্সারের উপাদান পটাশিয়াম ব্রোমেটের ব্যবহার বন্ধে রিট

১৭ বছরে পর্যাপ্ত নিয়োগ না হওয়ায় স্বাস্থ্যখাতে জনবল সংকট তৈরি হয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

২০২৬-২৭ অর্থবছরে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ৬৩ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলার: বাণিজ্যমন্ত্রী

সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে গ্রেপ্তারের দাবি আমলে নেওয়ার মতো নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস উল্টে খাদে, আহত ১২ যাত্রী

বঙ্গভবন ছাড়লেন সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন

জাতীয় স্মৃতিসৌধে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদের শ্রদ্ধা

সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিন আইন অনুযায়ী সব সুবিধা পাবেন

সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের

১০

‘সেনাসদর নির্বাচনি পর্ষদ-২০২৬’ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

১১

হাসপাতালের ছাদ থেকে খসে পড়ছে পলেস্তারা, আতঙ্কে রোগী ও স্বজনরা

১২