রাঙামাটিতে পাহাড়ি ঢলে ডুবে থাকা বিলাইছড়ির দুর্গম ফারুয়া ও বাঘাইছড়ির বন্যা পরিস্থিতি উন্নতির দিকে। রোববার (১২ জুলাই) সকাল থেকে মানুষ আশ্রয় কেন্দ্র ছেড়ে নিজ বসত বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছে।
এদিকে, জেলায় বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি হলেও দেখা দিয়েছে খাদ্য সংকট। হ্রদে তীব্র স্রোতের কারণে ফারুয়ার ইউনিয়নরে ১২ হাজার মানুষের কাছে এখনও পৌঁছায়নি কোন সরকারি ত্রাণ সহযোগিতা।অপরদিকে, বাঘাইছড়িতে গত দুইদিন বৃষ্টি না হওয়ায় বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে। এ উপজেলায় পাহাড় ধসে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাঘাইড়ির সঙ্গে খাগড়াছড়ির সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকায় দেখা দিয়েছে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের সংকট।
স্থানীয়রা জানায়, সরকারি ত্রাণের জন্য চিড়া, মুড়ি, পেয়াজ, আলু, সয়াবিন নেয়ার কারণে বাজার কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে। মানুষ বাসায় ফিরতে শুরু করায় চুলা জ্বালানোর জন্য এলপিজি পাচ্ছে না বাজারে। এর মধ্যে যোগাযোগ বন্ধ থাকায় নতুন কোন পণ্য বাজারে আসেনি।
বাঘাইছড়ি মারিশ্যা বাজার কমিটির সভাপতি নিজাম উদ্দিন বাবু জানান, রাস্তাভাঙা থাকায় গ্যাসের গাড়ি আসতে পারিনি। আর ত্রাণের জন্য উপজেলা প্রশাসন চিড়া, মুড়ি, পেয়াজ, আলু, সয়াবিন বিতরণের কারণে কিছু সংকট আছে। তবে আর দুই/এক দিনের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক না হলে পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে।
উপজেলা প্রশাসনের তথ্য মতে, এখানো দেড় হাজারেরও বেশি মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান করছে। পানি কমে যাওয়ায় অনেকে বাড়ি ফিরেছেন। এছাড়া জেলা প্রশাসনের তথ্য মতে জেলায় আশ্রয়কেন্দ্রে আছেন মোট ৩ হাজার ৮২০ পরিবার। পানিবন্দি রয়েছে ১ হাজার ৪৪টি পরিবার।
উজানের পানিতে নতুন করে প্লাবিত হয়েছে বরকল ও জুরাছড়ি উপজেলার বেশ কিছু গ্রাম। গতকাল শনিবার বরকলে ত্রাণ সমগ্রী বিতরণ করেছেন রাঙামাটির সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান।
একই দিন রাতে শহরের কয়েকটি আশ্রয় কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন এমপি জানান, ত্রাণ ও খাবার যতদিন লাগে দেব। তিন মাস হলে তিন মাস। এছাড়া, পাহাড়ে ধস ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত পুনর্বাসনের জন্য কাজ করবে সরকার।