হাওরে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কার মধ্যে পানি আসার আগেই ক্ষয়ক্ষতি কমাতে আগাম প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শুরু করেছে ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশ। স্টার্ট ফান্ড বাংলাদেশ-এর সহায়তায় সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ, কানাইঘাট ও গোয়াইনঘাট উপজেলার আটটি ইউনিয়নে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এতে ২,৭০০টি অতিদরিদ্র পরিবারকে সহায়তার আওতায় আনা হয়েছে।
বর্তমানে হাওর অঞ্চলে বোরো ধান কাটার মৌসুম চলছে। এ সময় বন্যা হলে কৃষকদের সারা বছরের আয়ের প্রধান উৎস ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সে কারণে আগাম সতর্কতার ভিত্তিতে নেওয়া এ উদ্যোগের লক্ষ্য ফসল রক্ষা এবং খাদ্য ও আয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
কার্যক্রমের আওতায় প্রতিটি নির্বাচিত পরিবারকে ৫ হাজার টাকা করে বহুমুখী নগদ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। নারীপ্রধান পরিবার, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এই অর্থ দিয়ে কৃষকেরা অতিরিক্ত শ্রমিক নিয়োগ, ধান কাটার যন্ত্র ভাড়া, ঘরবাড়ি মেরামত কিংবা প্রয়োজন হলে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার মতো পদক্ষেপ নিতে পারবেন।
এ ছাড়া স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে আকস্মিক বন্যা ও বজ্রপাতসংক্রান্ত আগাম সতর্কবার্তাও পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর তালহা জামাল বলেন, আগাম পদক্ষেপ বা ‘অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশন’-এর মূল লক্ষ্য হলো দুর্যোগ আঘাত হানার আগেই জীবন ও জীবিকা রক্ষা করা। আগেভাগে ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে কৃষকদের ফসল বাঁচানো এবং বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
প্রতিষ্ঠানটি আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা ইসলামিক রিলিফ ওয়ার্ল্ডওয়াইডের অংশ হিসেবে ১৯৯১ সাল থেকে দেশে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, জীবিকা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও ওয়াশ খাতে কাজ করে আসছে।