রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলায় সাবেক দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। বৃহস্পতিবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য ছিলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন এবং সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়। তারা দুজনই বর্তমানে গ্রেপ্তার অবস্থায় রয়েছেন।
এই মামলায় মোট ৩০ জনকে আসামি করা হয়। তাদের মধ্যে ছয়জন গ্রেপ্তার আছেন। গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, কর্মচারী আনোয়ার পারভেজ এবং ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ।
অন্যদিকে, সাবেক উপাচার্য মো. হাসিবুর রশীদসহ ২৪ জন আসামি পলাতক রয়েছেন। পলাতকদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়াও রংপুর মহানগর পুলিশের কয়েকজন সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও আছেন। এছাড়া ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মীও পলাতক তালিকায় রয়েছেন।
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রংপুরে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন আবু সাঈদ। ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, আবু সাঈদ দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে থাকাকালে পুলিশ তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এই ঘটনা আন্দোলনের গতিপথ বদলে দেয় এবং সারা দেশে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়।
মামলার তদন্ত শেষে গত বছরের ২৪ জুন ৩০ জনকে আসামি করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। ৬ আগস্ট অভিযোগ গঠন এবং ২৭ আগস্ট বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন। চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয় এবং ২৭ জানুয়ারি যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের পর রায় ঘোষণা করা হলো।