টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার শোলাকুড় গ্রামে স্ট্রবেরি চাষ করে এলাকায় আলোচনার জন্ম দিয়েছেন অনার্স পড়ুয়া শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন। বিদেশি এই ফলের বাণিজ্যিক চাষে সফল হয়ে চলতি মৌসুমে খরচ বাদে প্রায় ১০ লাখ টাকা লাভের আশা করছেন তিনি। তার এ উদ্যোগে অনুপ্রাণিত হয়ে স্থানীয় যুবকদের মধ্যেও স্ট্রবেরি চাষে আগ্রহ বাড়ছে।
কৃষি সংশ্লিষ্টদের তথ্য মতে, সুগন্ধ, রঙ ও স্বাদের জন্য স্ট্রবেরি ব্যাপক জনপ্রিয়। ফলটি দিয়ে জুস, জ্যাম, আইসক্রিম ও মিল্কশেকসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য তৈরি করা হয়। শীতপ্রধান দেশের ফল হলেও বর্তমানে দেশের অপেক্ষাকৃত শীতল অঞ্চলে এর চাষ সম্প্রসারিত হচ্ছে। ঘাটাইলে এবারই প্রথম বাণিজ্যিকভাবে স্ট্রবেরি চাষ শুরু হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মামুনের বাগানে সারিবদ্ধভাবে সাজানো গাছে টসটসে লাল স্ট্রবেরি ঝুলছে। প্রতিদিনই বাগান দেখতে ভিড় করছেন স্থানীয়রা। পরিবারের সদস্যরা ফল সংগ্রহ ও প্যাকেজিংয়ের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
মামুন জানান, ২০২২ সালে বাড়ির পাশে ১০০টি চারা দিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে চাষ শুরু করেন। সফলতা পাওয়ায় পরের বছর থেকে বাণিজ্যিকভাবে চাষ শুরু করেন। বর্তমানে তিনি ২ বিঘা জমিতে প্রায় ১০ হাজার চারা রোপণ করেছেন। প্রতিটি গাছ থেকে গড়ে আধা কেজি ফল পাওয়া যাচ্ছে। পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি ৬০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ থেকে ডিসেম্বরের শেষ পর্যন্ত চারা রোপণ করা যায়। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি গাছে ফুল আসে এবং জানুয়ারির মধ্যভাগ থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ফল সংগ্রহ করা সম্ভব। পর্যাপ্ত সহযোগিতা পেলে ভবিষ্যতে স্ট্রবেরি বিদেশে রপ্তানির সম্ভাবনাও রয়েছে।
শুরুর দিকে পরিবারের সদস্যরা আগ্রহী না থাকলেও এখন সবাই তাকে সহযোগিতা করছেন বলে জানান মামুন। তার বাগান দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ আসছেন এবং অনেকেই চারা সংগ্রহে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
বাগান দেখতে আসা কলেজছাত্রী সুমি আক্তার বলেন, স্ট্রবেরি চাষ দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজ বাড়ির ছাদে চাষ করতে চান তিনি। স্থানীয় যুবক রুবেল মিয়া জানান, এ ফলের চাষ লাভজনক হওয়ায় তিনিও ভবিষ্যতে বাগান করার পরিকল্পনা করছেন।
ঘাটাইল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দিলশাদ জাহান বলেন, স্ট্রবেরি উচ্চ পুষ্টিগুণসম্পন্ন ও জনপ্রিয় ফল। সঠিক সময়ে চারা রোপণ ও পরিচর্যা করলে ভালো ফলন পাওয়া যায়। মামুনের সফলতা অন্য কৃষকদের জন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে। আগ্রহী কৃষকদের কৃষি বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।